মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২৪ ডিসেম্বর ২০১৭

প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ বিভাগ সম্পর্কে

প্রশিক্ষণ এবং পরামর্শ বিভাগ

 

এনআইএলজি’তে সাধারণত: স্থানীয় সরকার বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। তবে বিভিন্ন সংস্থা/প্রকল্পের চাহিদার প্রেক্ষিতে অন্যান্য বিষয়ে যেমন: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সংরক্ষণ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচী ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

(ক) প্রশিক্ষণের প্রকার/ধরণ: এনআইএলজি প্রশিক্ষণার্থীদের চাহিদার সাথে সমন্বয় রেখে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে থাকে। সাধারনত ছয় ধরনের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয় যেমন:-

  • অবহিতকরণ কোর্স;
  • বুনিয়াদী কোর্স;
  • বিশেষায়িত বিভিন্ন কোসর্;
  • রিফ্রেশাসর্ কোর্স;
  • প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ (টিওটি) কোর্স;
  • চাহিদা ভিত্তিক প্রশিক্ষণ কোর্স প্রভৃতি।

(খ) প্রশিক্ষণার্থী: এনআইএলজি প্রধানত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের নির্বাচিত প্রতিনিধি ও নিয়োজিত কর্মকর্তাগণকে প্রশিক্ষণ প্রদান করে থাকে। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্য; উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও সদস্য; পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান সমূহে কর্মরত কর্মচারীগণ’কে সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার সচিবদের দীর্ঘমেয়াদী বুনিয়াদী প্রশিক্ষণ ও বিষয়ভিত্তিক বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। এছাড়া স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীগণকে বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।

বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৫,৪২৯ টি। এর মধ্যে বৃহৎ শহরগুলিতে ১১টি সিটি কর্পোরেশন এবং বড় ও ছোট শহরগুলোতে ৩২৬টি পৌরসভা রয়েছে। এগুলো নগর স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান। গ্রামীণ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলি হল ৬১টি জেলা পরিষদ, ৪৯১টি উপজেলা পরিষদ এবং ৪,৫৪০টি ইউনিয়ন পরিষদ। এ প্রতিষ্ঠানগুলিতে দায়িত্ব পালনরত প্রায় ১,২৭,০০০ ব্যক্তি এনআইএলজি’র প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে বিবেচিত। তাদের মধ্যে প্রায় ৬৬,৫০০ জন নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং প্রায় ৬০,৫০০ জন নিয়োজিত কর্মচারী। এছাড়া ৩টি বিশেষায়িত পার্বত্য জেলা পরিষদ রয়েছে যা আলাদা মন্ত্রণালয় কর্তৃক পরিচালিত।

(গ) প্রশিক্ষণের পরিধি: এনআইএলজি’র প্রশিক্ষণ পরিধি নিম্নরূপ -

  1. স্থানীয় সরকার আইন, বিধিমালা, নীতিমালা;
  2. আর্থিক ব্যবস্থাপনা (ক্রয়, কর, বাজেট, হিসাব ও নিরীক্ষা);
  3. অফিস ব্যবস্থাপনা;
  4. স্থানীয় পর্যায়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন;
  5. জেন্ডার ইস্যুজ;
  6. পরিবেশ সংরক্ষণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা;
  7. স্থানীয় পর্যায়ে বিচার ব্যবস্থাপনা  (যেমন- গ্রাম আদালত, বিরোধ মিমাংসা বোর্ড);
  8. স্থানীয় সরকার সংশ্লিষ্ট সরকারী নীতিমালা;
  9. এসডিজি অনুযায়ী বিভিন্ন উন্নয়নমূলক বিষয়;
  10. আইসিটি এবং কম্পিউটারের ব্যবহার;
  11. জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, শিশু অধিকার, বাল্য বিবাহ ও যৌতুক, স্যানিটেশন, ইত্যাদি;
  12. সংশ্লিষ্ট আইন (মুসলিম ও হিন্দু, পারিবারিক আইন, গ্রাম আদালত সংশ্লিষ্ট আইন,দূর্নীতি দমন আইন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ এবং চোরাচালান প্রতিরোধ আইন ইত্যাদি)।
  13. জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল, ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং ইনোভেশন ইত্যাদি।

(ঘ)  প্রশিক্ষণ পদ্ধতি: প্রশিক্ষণসূচি প্রণয়নের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণার্থীর প্রত্যাহিক কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং চাহিদার কথা বিবেচনা করা হয়ে থাকে। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতির উপর গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রশিক্ষণে অনুসরণীয় সাধারন পদ্ধতিসমূহ হলো-

  • বক্তৃতা                             
  • ডেমনস্ট্রেশন
  • দলীয় আলোচনা                           
  • অভিজ্ঞতা বিনিময়
  • অনুশীলন                          
  • ব্রেইন স্টর্মিং
  • কেইস স্টাডি                      
  • মুক্ত আলোচনা
  • ভূমিকা অভিনয়
  • ভিডিও চিত্র উপস্থাপন
  • মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপন
  • ফিল্ড ভিজিট

(ঙ)  প্রশিক্ষণ নেটওয়ার্ক: এনআইএলজি পরিকল্পনা মাফিক সফলতার সাথে প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য একটি কার্যকরী প্রশিক্ষণ নেটওয়ার্ক অনুসরণ করে থাকে। এ পদ্ধতিতে এনআইএলজি বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা গ্রহণ করে থাকে। কেন্দ্রীয়ভাবে পরিকল্পনা প্রণয়ন করে জেলা ও উপজেলা প্রশিক্ষকগণের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়। জেলা পর্যায়ে জেলা রিসোর্স টিম ও উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা রিসোর্স টিমের কর্মকর্তাগণ এনআইএলজি থেকে প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ (টিওটি) পেয়ে থাকেন। প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত প্রশিক্ষক থাকায় সারাদেশে একই মানের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।


Share with :
Facebook Facebook